কিয়ামতের দিন  মিজানের পাল্লা ভারী করার সহজ  আমল

পাপ পূরণের প্রতিদান দেয়া হবে পরকালে। মানুষ পৃথিবীতে যে যে কাজ করে যাবে, সেই কাজের হিসেবে অনুযায়ী তার আমল নামায় আমল  যোগ হবে।  হাশরের মাঠে সব হিসাব নিকাশ হবে। 

বান্দার ভালো মন্দ সব কাজ মিজানের পাল্লায় তুলে ওজন করা হবে। পৃথিবীতে যে ভালো কাজ করবে , হাশরের ময়দানে  তার নেকীর পাল্লা ভারী হবে এবং  সে কাজের প্রতিদান স্বরূপ জান্নাত লাভ করবে। আর যে মন্দ কাজ করবে তার পরিনাম হবে ভয়াবহ ,সে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে। 

কিয়ামতের দিন মিজানের পাল্লা ভারী করার জন্য মুমিন মুসলিম ব্যক্তিদের বেশি বেশি আমল করতে হবে। যে আমলের বিনিময়ে মহান আল্লাহ তায়ালা খুশি হয়ে অগণিত সওয়াব দেন করবেন। মিজানের পাল্লায় তা হবে সাত আসমান এবং সাত জমিনের চেয়ে বেশি ওজন। 

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন ,আমি কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করব। সুতরাং কারো প্রতি জুলুম করা হবে না। যদি কোনো আমল সরিষা দানার পরিমাণ হয় ,আমি তা উপস্থিত করব। আর হিসাব গ্রহণের জন্য আমিই যথেষ্ট। (সূরা : আম্বিয়া , আয়াত নং : ৪৭ )

নেকীর পাল্লা ভারী হওয়ার কিছু আমল বর্ণনা করা হলো : 

১। কালেমার জিকির করা 

যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ জিকির করবে তার আমল নামে এত বেশি আমল লেখা হবে যে সাত আসমান এবং সাত জমিন মিজানের পাল্লায় এক পাশে রেখে অন্য পাশে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ‘র পরে যে নেকি হবে তা তুলে দিলে জিকিরের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। 

– হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন,

হে মুহাম্মাদ! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সৃষ্টির মধ্য থেকে আপনার উম্মতের এমন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করান, যে ব্যক্তি একদিন হলেও ইখলাসের সঙ্গে এ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই এবং সে এর উপর মৃত্যুবরণ করেছে।’ (মুসনাদে আহমদ)

২।  আলহামদুলিল্লাহ বলা 

আলহামদুলিল্লাহ শব্দের অর্থ সব প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। কিয়ামতের দিন সাত আসমান ও সাত জমিন এর ওজনের চেয়ে ভারী হবে আলহামদুলিল্লাহ এর নেকীর পাল্লা।  ভালো – মন্দে ,আনন্দে -বিপদে যে কোনো খবরে আলহামদুলিল্লাহ বলা। 

হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সর্বোত্তম জিকির হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং সর্বোত্তম দোয়া হলো ‘আল-হামদুলিল্লাহ’।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান)

৩। “ সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম” জিকির করা

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুটি কালেমা  রয়েছে, যেগুলো দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, উচ্চারনে খুবই সহজ আর আমলমকরলে নেকীর পাল্লা অনেক ভারী হবে। 

আমলটি হলো : ‘ সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম’

৪। সৎ চরিত্র বা উত্তম চরিত্র 

সৎ চরিত্রের লোককে মহান আল্লাহ তায়ালা খুব ভালো বাসেন। সৎ চরিত্রের লোককে দুনিয়ার সবাই ভালোবাসে এবং সম্মানিত হয়। মৃত্যু পর ও সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। 

হজরত আবু হুরায়রা (রা) বলেন ,হজরত মুহাম্মদ (সা) কে জিজ্ঞাসা করা হলো কোন কাজ অধিকাংশ লোককে জান্নাতে প্রবেশ করাবে ? তিনি উত্তরে বলেন ,কিয়ামতের দিন যে জিনিসটি মুমিনের পাল্লায় সবচেয়ে ভারী হবে তা হলো তাকওয়া বা উত্তম চরিত্র। (তিরমিযী )

৫। জানাজায় অংশগ্রহণ করা 

জানাজায় অংশ গ্রহণ করা অনেক সওয়াবের কাজ। জানাজায় অংশগ্রহণ করা প্রত্যেক মুমিনের ৬টি হকের অন্যতম। যে ব্যক্তি জানাজায় ঈমানের সঙ্গে  অংশগ্রহণ করে ,জানাজার সালাত আদায় করে দাফন পর্যন্ত সাথে থাকে তার জন্য অনেক সওয়াব রয়েছে। 

মৃতের সালাত আদায় পর্যন্ত জানাজায় উপস্থিত থাকবে ,তার জন্য এক কিরাত। আর যে ব্যক্তি মৃতের জানাজা এবং দাফন পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে তার জন্য দুই কিরাত সওয়াব রয়েছে।

প্রতি কিরাতের ওজন হচ্ছে ওহোদ পাহাড়ের সমান সওয়াব। দুই কিরাত হলো দুইটি পাহাড়ের সমান সওয়াব পাবে। 

৬।  সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্য ধারণ করা 

নাবালেক সন্তানের মৃত্যুতে তার বাবা মা আত্মীয় স্বজনেই জন্য হবে নাজাতের ওসীলা। নাবালক সন্তান পরকালে তার পিতা মাতার জন্য সুপারিশ করবে। 

নাবালেক সন্তানের মৃত্যুতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা) দোয়া করতেন। দোয়াটি হলো : 

মেয়ে শিশু হলে 

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাঝআলহা লানা ফারাত্বাও ওয়াঝআলহা লানা আঝরাও ওয়া জুখরাও ওয়াঝআলহা লানা শাফিআতাও ওয়া মুশাফ্‌ফাআহ্‌।’

ছেলে শিশু হলে 

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাঝআলহু লানা ফারাত্বাও ওয়াঝআলহু লানা আঝরাও ওয়া জুখরাও ওয়াঝআলহু লানা শাফিআও ওয়া মুশাফ্‌ফাআ।’

কারো সন্তান মারা গেলে তার জন্য বেশি বেশি করে এই দোয়া পাঠ করতে হবে। এতে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ বয়ে আনবে। 

৭। দ্বীনের পথে দাওয়াত 

যে ব্যক্তি মানুষকে মহান আল্লাহ তায়ালার পথে চলার জন্য আহ্বান করে সে ব্যক্তির আমলনামায় নেকীর পরিমান  সাত আসমান ও সাত জমিনের থেকে ভারী হবে। 

৮। দান করা 

মহান আল্লাহ তায়ালা দান সদকা করি ব্যক্তিকে খুব ভালোবাসে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ(সা) বলেছেন ,খেজুরের  অংশ দান করে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা কর। (বুখারী ,মুসলিম )

Sharing Is Caring:

Leave a Comment